• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের বার্তা, জামায়াতে আপত্তি

সিসি নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছে ভারত। বর্তমান সরকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে নয়াদিল্লি তার দ্বিমতের বিষয়টিই জানিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করেই শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে ভারতের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। জি২০ বৈঠকের আগে দেওয়া এই কূটনৈতিক বার্তায় বাংলাদেশ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল দিল্লি।

কূটনৈতিক নোটে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে তা ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র কারও পক্ষেই সুখকর হবে না। কারণ, হাসিনার সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে জামায়াতের মতো সংগঠনের ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতকে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখে। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু ভারত মনে করে, জামায়াত একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠন। ভারতের বার্তায় এ কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত আছে। বাংলাদেশে জামায়াতের মতো সংগঠন শক্তিশালী হলে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা সমস্যার মুখে পড়বে। জামায়াতের মতো সংগঠনের সঙ্গে পাকিস্তানের নিবিড় যোগ আছে বলেই মনে করে দিল্লি।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতও বাংলাদেশে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করে ভারত।

এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল দিল্লি ঘুরে যাওয়ার পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ভারতীয় প্রশাসনের।’

আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে জি২০ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এই বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং উপমহাদেশের ভূরাজনীতি নিয়ে সমান্তরাল (সাইড লাইন) বৈঠক হতে পারে। ভারত জি২০-এর মঞ্চকে এ বিষয়ে আলোচনার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে এমন ইঙ্গিতই মিলছে।

ভারতের ওই কূটনৈতিক নোটে আফগানিস্তানের প্রসঙ্গও উত্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে যেভাবে ঘাঁটি সরিয়ে নিয়েছে এতে ভারত সন্তুষ্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত বলেছে, এর ফলে উপমহাদেশ অঞ্চলে অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে।

তালেবান উপমহাদেশের ভূরাজনীতিতে একটি বড় ‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ভারত। সেই সঙ্গে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দিল্লির চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গেই বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির সমালোচনা করেছে ভারত। যেখানে ভিসা নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন যারা বানচাল করার চেষ্টা করবে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভিসা দেবে না। ভারত মনে করে এই নীতি সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মের সময় থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মসৃণ থেকেছে। যখনই সে দেশে অন্য কোনো সরকার ক্ষমতায় এসেছে, দুই দেশের সম্পর্ক ততটা মসৃণ থাকেনি। তাই ভারত সব সময়ই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকারকে গুরুত্ব দেয়।’ উৎপল মনে করেন, ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকার দেখতে চায় ভারত। কারণ, ভারত মনে করে আওয়ামী লীগের সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকলে দুই দেশের সীমান্ত আপাতদৃষ্টিতে সুরক্ষিত থাকে।

সবকিছু মিলিয়ে আসন্ন জি২০ সম্মেলন হয়ে উঠতে পারে এশিয়ার ভূরাজনীতির দর-কষাকষির ময়দান। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও সে কথা নানা মাধ্যমে স্বীকার করছেন।

উৎস: ডয়চে ভেলে


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ